ঐতিহাসিক চান্দামারী মসজিদ

December 5, 2020, 2:44 am

ঐতিহাসিক চান্দামারী মসজিদ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঐতিহাসিক চান্দামারী মসজিদ। মসজিদটি মুঘল আমলে প্রায় ৪০০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় বলে কথিত রয়েছে। স্থাপত্যের সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মিত চান্দামারী জামে মসজিদ আজও তার স্ব-স্থানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও মসজিদটি অনেক পুরনো, তবুও রয়েছে অক্ষত।

এখনো এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন এলাকার তথা দূর দূরান্ত থেকে আসা শত শত মুসল্লি। এ মসজিদটি কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে রাজারহাট উপজেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমদিকে এর অবস্থান। এটি উপজেলার চান্দামারী ম-লপাড়া গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। জানা যায়, এ মসজিদটি ৫১শতাংশ জমির উপর নির্মিত। ভারতের বাবরী মসজিদ ও বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের সঙ্গে চান্দামারী মসজিদটির যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

ঐতিহ্য ও স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আজও ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে এ মসজিদটি। এখানে গম্বুজ সংখ্যা কম হলেও সৌন্দর্যে কোনো অংশে কম নয়। তিন গম্বুজ এবং তিন মেহেরাব বিশিষ্ট ইট, সুড়কি দ্বারা সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মিত এ ধাঁচের মসজিদ এখন আর জেলার কোথাও তেমন পরিলক্ষিত হয় না। পুরো অবকাঠামোটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট। চারদিকে বাউন্ডারি ওয়ালবেষ্টিত এবং ৬০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন মসজিদটি বিভিন্ন্ কারণে তার সেই জৌলুস হারাচ্ছে। পুরনো কারুকাজ অনেকটা নষ্ট হওয়ার পথে। দুই একটি অংশে গাঁথুনি ভেঙে গেছে কিংবা লোনা ধরেছে।

পুরো অবকাঠামোটি এখন ধ্বংসের সম্মুখীন। মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের উদ্যোগে মুসল্লিদের কথা চিন্তা করে জায়গার সংকুলান করতে বাইরেও একটি শেড করা হচ্ছে। চান্দামারী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, রাজারহাট উপজেলায় মোঘল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর মধ্যে চান্দামারী মসজিদটি জেলার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এর কিছু কিছু জায়গা নষ্ট কিংবা ক্ষয়ে গেলেও এখনো এর সৌন্দর্য রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা যাচ্ছে না। মসজিদটি সংরক্ষণে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এমনকি অতি দ্রুত এর স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহায়তায় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারে। এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম জানান, উপজেলার চান্দামারী মসজিদটি অত্যন্ত প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন। এখানে অনেক পুরাকীর্তি ধ্বংস হওয়ার পথে। এগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। এজন্য এ মসজিদসহ রাজারহাটের প্রাচীন স্থাপনাসমূহের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে অতি দ্রুত এ মসজিদটির ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে প্রেরণ করা হবে।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর


Share via
Copy link
Powered by Social Snap