জলাতঙ্ক নির্মূলে ৫ লাখ কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ

October 30, 2020, 11:16 am

জলাতঙ্ক নির্মূলে ৫ লাখ কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ

জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষা পেতে বৈশ্বিক কর্মকৌশলে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে এই অবহেলিত রোগটির বিরুদ্ধে জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। দেশব্যাপী জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রমের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে চারটি জেলায় প্রথম রাউন্ড ও ১৬টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ডে আরও আনুমানিক পাঁচ লাখ কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (সিডিসি) জুনোটিক ডিজিজ কন্টোল প্রোগ্রামের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শ ম গোলাম কায়ছার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, টিকার মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ হয়। এই সচেতনতা বাড়ার ফলে সারাদেশে ৬৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১২ সালে বিনামূল্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রোগী বেশি টিকা পেয়েছে। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৯-তে উন্নীত হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সিডিসির মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় তিন লাখ ভায়াল টিকা দেশের বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে।  

তিনি জানান, কুকুর/প্রাণীর আঁচড়, কামড়ের পর টিকা দিলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ হয়। কিন্তু দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন কুকুরকে জলাতঙ্ক থেকে নিরাপদ করা। কোনো এলাকার শতকরা ৭০ শতাংশ কুকুরকে ব্যাপক হারে টিকা দিলে ওই এলাকার কুকুরের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। তিন বছর পর পর তিন রাউন্ড টিকা দিলে কুকুর থেকে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীতে সংক্রমণের হার শূন্যের কোটায় নেমে আসে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

২০২২ সালের প্রতি মিলিয়নে ১ জনের কম এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ব্যাপকহারে কুকুর টিকাদান কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। ২০১১ সাল থেকে সারাদেশে ব্যাপকহারে কুকুর টিকাদান কার্যক্রম চালু করে এ প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্যমতে, ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রমের আওতায় ৬৪টি জেলা সদর পৌরসভা ও ১০টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৬০টি জেলার সব উপজেলায় ১ম রাউন্ডে টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, পাবনা, নীলফামারী জেলায় ২য় রাউন্ড এবং সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলায় ৩য় রাউন্ড টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩০টি কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে চারটি জেলায় প্রথম রাউন্ড ও ১৬টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড আরও আনুমানিক পাঁচ লাখ কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর


Share via
Copy link
Powered by Social Snap