দেশে কোটিপতি বাড়ছে দ্রুতগতিতে

July 11, 2020, 12:41 am

দেশে কোটিপতি বাড়ছে দ্রুতগতিতে

গত এক বছরে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে আট হাজার ২৭৬টি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে বেড়েছে তিন হাজার ৯৬২টি। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের প্রায় সাড়ে ৪৩ শতাংশই কোটিপতিদের দখলে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে এক কোটি টাকা বা এর বেশি আমানত রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এখন ৮৩ হাজার ৮৩৯টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে অর্থনীতির আকার ক্রমেই বড় হচ্ছে। প্রতি বছরই বাড়ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়।

এতে মানুষের সঞ্চয়প্রবণতা বেড়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুণগত মান না বাড়ায় সমাজের একটি শ্রেণির কাছেই বেশি সম্পদ ও অর্থ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যে কোনো দেশেই কোটিপতির সংখ্যা বাড়াটা উন্নয়নের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। তবে একই সময়ে যদি মানুষের মধ্যে বৈষম্য বাড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই এই উন্নয়ন ইতিবাচক প্রভাবের তুলনায় নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৯৫ হাজার ২১১টি। এর মধ্যে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮৩৯টি। এ সময়ে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোটিপতিদের দখলে থাকা আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের প্রায় ৪৩.৩৯ শতাংশ। তিন মাস আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে কোটিপতির অ্যাকাউন্ট ছিল ৭৯ হাজার ৮৭৭টি।

ফলে তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৯৬২টি। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৫৬৩টি। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে আট হাজার ২৭৬টি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোর তথ্য এই পরিসংখ্যানে আসেনি। যেহেতু কভিড-১৯ এর কারণে দেশের অর্থনীতিতে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। এবং মানুষ কর্ম হারাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে এসব অ্যাকাউন্টগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের খতিয়ে দেখা উচিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটিপতি এসব অ্যাকাউন্ট বৃদ্ধির হার থেকে বোঝা যায় একটি বিশেষ শ্রেণির কাছেই দিন দিন আয় ও সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল এই শ্রেণির মানুষই ভোগ করছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি দেশে মানুষে মানুষে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে। একটি দেশের আয়বৈষম্য পরিমাপের মানদন্ড হলো গিনি কো-এফিশিয়েন্ট। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন গিনি কো-এফিশিয়েন্ট ছিল ০.৩২ শতাংশ। ১০ বছর পর এসে তা বেড়ে ০.৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের পরিভাষায় এটি উদ্বেগজনক। পৃথিবীর কোথাও বা আশপাশের কোনো দেশে কো-এফিশিয়েন্ট এত বেশি না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা চাইব দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ুক। কারণ দেশে যত বেশি সম্পদশালী মানুষ হবে অর্থনীতি তত বাড়বে। সবাই ধনী হোক এটা সবাই চায়, কিন্তু এই সম্পদ যদি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত থাকে, মানুষে মানুষে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বেড়ে যায়, তাহলে সেটি উদ্বেগজনক। যেসব সূচক প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে বৈষম্য বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে যে বণ্টনগুলো হচ্ছে, সেই বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের বিষয়গুলো যাতে গুরুত্ব পায় সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বাজেটে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর


Share via
Copy link
Powered by Social Snap