কীভাবে বুঝবেন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব?

May 27, 2020, 9:23 am

কীভাবে বুঝবেন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব?

আমরা অনেক সময় নিজেদের শরীরের অনেক ব্যাপার খেয়াল করি না। বড় রোগ বা জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আগে শারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটে। শুধু একটু সচেতন এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হলে, অনেক অঘটন ঘটা থেকে বাঁচা সম্ভব।

দেহে সঠিক পরিমাণে পুষ্টির অভাব হলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আপনি যদি প্রায়ই অসুখে ভোগেন অর্থাৎ আজ এই অসুখ কাল সেই অসুখে, তবে বুঝতে হবে আপনার দেহে প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিভিন্ন উপাদানের জটিল সমন্বয়ে তৈরী এক প্রাকৃতিক হাতিয়ার যা রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা জোগায়। এসব উপাদানের যে কোনটির অভাব হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থাটিকেই বলে প্রাইমারী ইমিউনোডেফিসিয়েন্সী।

প্রাইমারী ইমিউনোডেফিসিয়েন্সী একটি নির্দিষ্ট রোগ নয় বরং কতগুলো বিরল রোগের সমষ্টি। প্রায় বারোশো জনে একজনের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়। ছোট বড় নির্বিশেষে প্রাইমারী ইমিউনোডেফিসিয়েন্সী হতে পারে, আর এর লক্ষণও প্রায় একই।

দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য এই লক্ষণগুলোকে চেনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেখে নিন এরকম জরুরী কতগুলো লক্ষণ –

শিশুদের লক্ষণ

১. এক বছরের মধ্যে চার বা তার চেয়ে বেশী বার কানের ইনফেকশন হওয়া।

২. এক বছরের মধ্যে দুই বা তার চেয়ে বেশী বার সাইনাসের সমস্যা হওয়া।

৩. দুই মাস বা তার বেশী সময় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরও কাজ না করা।

৪. এক বছরের মধ্যে দুই বা তার বেশী বার নিউমোনিয়া হওয়া।

৫. বার বার চামড়ার গভীরে বা দেহের ভেতরে পুঁজ জমা।

৬. শিশুর ওজন এবং শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকভাবে না হওয়া।

৭. মুখের ঘা বা ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ সহজে ভালো না হওয়া।

৮. জীবাণু সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্য বার বার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন প্রয়োগের প্রয়োজন হয়।

৯. দুই বা তার বেশী বার রক্তে কিংবা দেহের ভেতরে জীবাণু সংক্রমণ হয়।

১০। পরিবারে আর কারো প্রাইমারী ইমিউনোডেফিসিয়েন্সী হবার ইতিহাস থাকা।

বড়দের লক্ষণ

১. এক বছরের মধ্যে চার বা তার চেয়ে বেশী বার কানের ইনফেকশন হওয়া।

২. অ্যালার্জির সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও এক বছরের মধ্যে দুই বা তার চেয়ে বেশী বার সাইনাসের ইনফেকশন হওয়া।

৩. প্রতি বছর অন্তত একবার নিউমোনিয়া হওয়া।

৪. দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া এবং ওজন কমে যাওয়া।

৫. বার বার ভাইরাসের সংক্রমণ যেমন সর্দিকাশি, হার্পিস ইত্যাদি।

৬. জীবাণু সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্য বার বার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন প্রয়োগের প্রয়োজন হওয়া।

৭. বার বার চামড়ার গভীরে বা দেহের ভেতরে পুঁজ জমা।

৮. মুখের ঘা, ত্বক বা অন্যান্য স্থানের ছত্রাক সংক্রমণ সহজে ভালো না হওয়া।

৯. সাধারণত ক্ষতি করে না এমন জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ সৃষ্টি হওয়া।

১০. পরিবারে আর কারো প্রাইমারী ইমিউনোডেফিসিয়েন্সী হবার ইতিহাস থাকা।

এগুলোর মধ্যে যে কোন দুটি বা তার বেশী লক্ষণ দেখতে পেলে দেরী না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আসলে আমাদের অসুস্থ হওয়ার মূল কারণ হল- শরীরে সঠিক পরিমাণে পুষ্টির অভাব। আর, এই পুষ্টির অভাব বা ঘাটতি হয় মূলত সঠিক খাদ্যাভ্যাস না থাকলে।

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর


Share via
Copy link
Powered by Social Snap