‘বিশ্ব ইজতেমা’র উৎপত্তি

February 21, 2020, 3:56 pm

‘বিশ্ব ইজতেমা’র উৎপত্তি

পুরো সমাবেশস্থলটি একটি উন্মুক্ত মাঠ, যা বাঁশের খুঁটির ওপর চট লাগিয়ে ছাউনি দিয়ে সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়। শুধু বিদেশি মেহমানদের জন্য টিনের ছাউনি ও টিনের বেড়ার ব্যবস্থা করা হয়। সমাবেশস্থলটি প্রথমে খিত্তা এবং পরে খুঁটি নম্বর দিয়ে ভাগ করা হয়। অংশগ্রহণকারীগণ খিত্তা নম্বর ও খুঁটি নম্বর দিয়ে নিজেদের অবস্থান শনাক্ত করেন। তা ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলাওয়ারি মাঠের বিভিন্ন অংশ ভাগ করা থাকে। বিদেশি মেহমানদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনীসমৃদ্ধ এলাকা থাকে, সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরাই কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, কোনো সশস্ত্র বাহিনীর অনুপ্রবেশের অধিকার দেয়া হয় না।

সাধারণত তাবলিগ জামাতের অংশগ্রহণকারীরা সর্বনিম্ন তিন দিন আল্লাহর পথে কাটানোর নিয়ত বা মনোবাঞ্চা পোষণ করেন। সে হিসেবেই প্রতিবছরই বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী।

সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুক্রবার আম বয়ান ও বাদ জুমা থেকে বিশ্ব ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এ বছর ১০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রতিবছরই এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশ্ব ইজতেমা প্রতিবছর দুইবারে করার সিদ্ধান্ত নেয় কাকরাইল মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় এবং তিনদিন করে আলাদা সময়ে মোট ছয়দিন এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ আম বয়ান বা উন্মুক্ত বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় এবং আখেরি মোনাজাত বা সমাপনী প্রার্থনার মাধ্যমে শেষ হয়।

এ বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ তীরে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইতজেমা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম পর্বের শেষ দিন ১২ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন ১৯ জানুয়ারি উভয় পর্বে মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ!

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর