Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / অপরাধ / তালতলীতে ৮ বছরের শিশুকে হত্যা, সৎমাসহ গ্রেপ্তার-৩

তালতলীতে ৮ বছরের শিশুকে হত্যা, সৎমাসহ গ্রেপ্তার-৩

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে ৮ বছর বয়সী রাব্বি নামের এক শিশুর লাশ নিজ বাড়ীর পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়ছে। এব্যাপারে ৪ জনকে মূল আসামী ও আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সৎপুত্রকে হত্যার মূল হোতা হিসেবে অভযিুক্ত সৎ মা মোসাঃ চম্পা বেগম ও তার স্বামী মোঃ সোহরাব শিকদার এবং তাদের জামাতা কলাপাড়ার আমীরাবাদ গ্রামের সন্যামত এর পুত্র মোঃ জহিরুল ইসলামকে তালতলী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার উপজলোর বড়বগী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের করমজাপাড়া গ্রামে।

পুলশি ও এলাকা সুত্রে জানাগেছে, তালতলীর বরবগী ইউনিয়নের করমজাপাড়া গ্রামের সোহরাব সিকদার (৪০) দুই বিবাহ করিয়া নিজ বাড়ীর একই ঘরের দুই পাসের বারান্দায় দুই স্ত্রী ও সন্তাদের নিয়ে বসবাস করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন যাবত তাদের সংসারের মধ্যে দুই বিবাহ ও ২য়-স্ত্রী পপির পূর্বের স্বামীর খুলনা জেলার শাহ-আলমের ঔরসজাত সন্তান মোঃ রাব্বি (০৮)কে নিয়ে অতিরিক্ত বোঝা হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই সতীনের মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া-ঝাটি প্রায় লেগেই থাকতো। ঘটনার দিন ২৯/০১/২০১৮ ইং তারিখ এর পূর্বের রাত অথাৎ ২৮/০১/২০১৮ ইং তারিখ দিবাগত রাতে উক্ত বিষয় নিয়ে ১ম-স্ত্রী পপি ও তার সতিন ২য়-স্ত্রী চম্পার সাথে ঝগড়া-ঝাটি হইলে সোহরাব সিকদার ঐ রাতে পপি ও চম্পাকে বেদরক মারধর করে এবং ভোর হলে ২য়-স্ত্রী পপির ছেলে রাব্বিকে রাব্বির খালার বাড়ীতে অর্থাৎ পপির বোনের বাড়ীতে দিয়ে আসবে, আর কোন দিনও এ বাড়ীতে আসবেনা বলে তাৎখনিক ভাবে ঝগড়া থামায়। ঘটনার দিন ভোর অনুমান ৪ টার সময় উক্ত সোহরাব সিকদার পপির পূর্বের স্বামীর ঔরশজাত সন্তান রাব্বিকে রাব্বির খালার বাড়ীতে অথাৎ পপির বোনের বাড়ীতে দিয়ে আসার কথা বলিয়া ঘরের উত্তর পাশের বারান্দার রাব্বির গর্ভধারিনী মা পপির বিছানা হইতে সোহরাব সিকদার রাব্বিকে তুলিয়া নিয়া যায়। সকাল অনুমান ৭টার দিকে রাস্তায় লোকজন রাব্বীকে মৃত অবস্থায় বাড়ীর শুকনা পুকুরের পারে দেখতে পেয়ে ডাকা-ডাকি করিলে পপি ঘটনা স্থলে আসিয়া জোড়ে ডাকা-ডাকি ও উচ্চস্বরে কান্ন-কাটি করিলে প্রথমে স্থানীয় লোকজন ও স্থানীয় চৌকিদার এবং স্থানীয় মেম্বর আসিয়া রাব্বিকে তার সৎমা চম্পার ব্যবহৃত শাড়ী-কাপড় দিয়ে পেচানা অবস্থায় দেখতে পায়। সাথে সাথে তালতলী থানায় সংবাদ দিলে থানায় ১০০৭ নং একটি সাধারন ডায়েরী হয় এবং তাৎখনিক ভাবে থানা পুলিশ এসে মৃত রাব্বির লাশের সুরাতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করিয়া লাশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ বরগুনা মর্গে পাঠায়।

এলাকা সূত্রে আরও জানাযায়, সোহরাব সিকদার এর সাথে তার ১ম-স্ত্রী ২ কন্যা সন্তানের জননী মোসাঃ চম্পা বেগমের সাথে ২০১৩ সালে তাদের সাংসারিক মতভেদের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ১ম-স্ত্রী চম্পা বেগম রাগ করে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার তার বাবার বাড়ী কুয়াকাটা গিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় স্বামী সোহরাব সিকদার জেলহাজতে যান। জেলহাজত থেকে মুক্তি পেয়ে ২০১৪ সালের প্রথম দিকে সিকদার ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্র রাব্বিকে নিয়ে মোসাঃ পপি বেগমকে দ্বিতীয় বিবাহ করে। সোহরাব সিকদারের সংসারে এসে ২০১৫ সালে পপির গর্ভে এক কন্যা সন্তাান জন্ম নেয় ।

অপর দিকে বাবার বাড়ীতে থাকা ১ম-স্ত্রী মোসাঃ চম্পা বেগম তার সন্তানদের নিয়ে ৩বছর পর গত ২০১৭ সালের নভম্বের মাসে স্বামী সোহরাব সিকদারের এর বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বরবগী ইউনিয়নের করমজাপাড়া গ্রামের বাড়ীতে আসে। এরপর দুই সতীন মোসাঃ চম্পা ও মোসাঃ পপির মধ্যে শুরু হয় ঝগড়াঝাটির পালা। বহুবার ঝগড়াঝাটির ফলে চম্পা একাধিকবার পপি ও তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে পপি ও তার প্রতিবেশীরা জানান। ঘটনার রাতে পূর্বের মত ২য় স্ত্রী-পপি তার পুত্র রাব্বি ও কন্যাকে নিয়ে ঘরের বারান্দায় খোলা জানালার পাশরে চৌকেিত এবং সোহরাব সিকদার তার ১ম-স্ত্রী চম্পা ও সন্তানদের নিয়ে অপর বারন্দায় আলাদা চৌকেিত ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘটনার দিন ভোর অনুমান ৪ টার সময় সোহরাব সিকদার ২য়-স্ত্রী পপির পূর্বের স্বামীর ঔরশজাত সন্তান রাব্বিকে রাব্বির খালার বাড়ীতে অথাৎ পপির বোনের বাড়ীতে দিয়ে আসার কথা বলিয়া রাব্বির গর্ভধারিনী মা পপির বিছানা হইতে সোহরাব সিকদার তুলিয়া নিয়া যায়। পরে সকাল অনুমান ৭টার দিকে রাস্তার লোকজন রাব্বীকে মৃত অবস্থায় শুকনা পুকুরের পারে রাব্বিকে শাড়ী কাপড় দিয়ে পেচানা অবস্থায় দেখতে পায়ে ডাকা-ডাকি করে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

সরেজমিনে আরও জানাযায়, উক্ত সোহরাব সিকদার একজন মামলাবাজ ও আসামীরা এলাকার খারাপ লোক। তাদের নামে তালতলী থানায় মামলা নং-৩(৯)১৭ ধারা নাঃ শিঃ ৯(১), তালতলী থানায় মামলা নং-৪(৫)১৬ ধারা ৪১৭/৪০৬ পিসি, তালতলী থানায় মামলা নং-২০(৯)১০ ধারা ৩৭০/৪১১ পিসি। এছাড়া এলাকাবাসী আরও জানাযায় , সোহরাব সিকদার ও তার ১ম-স্ত্রী রাব্বিকে শ্বাস রোধ করিয়া ও অথবা অন্য কোন উপায়ে খুন করিয়া লাশ গোপন করিয়া ২য়-স্ত্রী পপিকে তার স্বামীর বাড়ী থেকে তারানো বা অন্য কাউকে ফাসানোর জন্য রাব্বিকে হত্যা করেছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুনজন চলছে। মামলার ৩নং আসামী মোঃ সায়েদ সিকদার বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলনে, রাব্বিকে তাদরে বাড়ীর পুকুর পাড় থেকে মৃত্যু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ ময়না তদন্তরের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Comments

comments