Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / আন্তর্জাতিক / পশ্চিমা শক্তিকে মিয়ানমারের হুমকি

পশ্চিমা শক্তিকে মিয়ানমারের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞায় ভালো কিছু হবে না বলে হুমকি দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস-এর এক খবর থেকে এ কথা জানা গেছে।

দেশটির ক্ষমতাসীন ডি-ফ্যাক্টো সরকারের শীর্ষ বেসামরিক প্রতিনিধিরা মিয়ানমার টাইমসকে বলেছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও পরিবর্তন আসবে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের সংকট। ব্যাহত হবে শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

রয়টার্স-এর সোমবারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ওই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বৌদ্ধনেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা রয়েছে আলোচনার টেবিলে।

দেশটির পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী উ তুন তুন নাইং বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা শোনা যাচ্ছে। এটা ভালো খবর নয়। অর্থনৈতিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তারা আমাদের অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাধা দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, আমরা সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চাই। যখন কেউ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, আমাদেরকে রাখাইন নিয়ে সত্য বলতেই হয়। এই নিষেধাজ্ঞা আমরা চাই না। আমরা প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরবো।’

সবকিছু মিলিয়ে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার প্রত্যক্ষ প্রভাব খুব বেশি নয়। মিয়ানমার টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে মিয়ানমারের উপর সরাসরি প্রভাব কম পড়বে। তবে এতে কর্মসংস্থার সংকট তৈরী হওয়ার মধ্য দিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উ তুন তুন বলেন, যেই দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বেশি তাদের সঙ্গে ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক অনেক কম। তাই এই নিষেধাজ্ঞায় অর্থনৈতিকভাব খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না মিয়ানমার।’

ক্ষমতাসীন এনএলডি সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইউ ইয়ে মিন উ বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারে বিভক্তি ও অনৈক্যর সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, মিয়ানমার এখনও অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছে। নিষেধাজ্ঞায় দেশটি আরও বিপাকে পড়বে। এটা সরকারের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

তাই এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কারোরই লাভ হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। আমরা সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে একসঙ্গে আমরা এর সফলতা পাবো। তাই কোনও পরাশক্তি যদি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তার মানে হচ্ছে তারা আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এতে কেউ উপকৃত হবে না।’
ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতরের মুখপাত্র উ জাও তায় বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার ধরন কেমন সেটা বিবেচ্য নয়, পশ্চিমের এমন কিছু করা উচিত নয় যা আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ শান্তি স্থাপন, এবং মানুষের জীবন মানের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

Comments

comments