Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / জেলার খবর / এস. পি মিজান এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আলোচনার মধ্যমণি

এস. পি মিজান এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আলোচনার মধ্যমণি

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): সমগ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন আলোচনার মধ্যমণিতে পরিণিত হয়েছে সুদক্ষ ও চৌকস পুলিশ অফিসার এস,পি মিজানুর রহমান। পুলিশ সুপার হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি আছেন নানা আলোচনায়। অপরাধ নির্মূলে তিনি যেমন কঠিন,তেমনি অসহায়, নির্যাতিত, নিপীড়িত গরীব দুঃখী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তৎপর।

অনাথ হাবিবার জাঁকঝমক পূর্ণ বিয়ের আয়োজন, এসিড সন্ত্রাসের শিকার খাদিজা ও শারিরীক প্রতিবন্ধী মৌসুমীর পাশে দাঁড়িয়ে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। দিন মজুর আলাউদ্দিনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে,পথ শিশুদের বিদ্যালয়কে সহযোগিতায়, টি এ রোডে সেতুর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করে নানা আলোচনার জন্ম দেন এস,পি মিজানুর রহমান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে হয় মাদক থাকবে, না হয় আমি থাকব এমন ঘোষনা করে আলোচনা আসেন এস,পি মিজানুর রহমান। পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার প্রতিফলন ঘটায়,বেশ খুশি জেলাবাসী।এস,পি মিজানুর রহমানের এমন ঘোষনার পর জেলা উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী আবার পুলিশের ভয়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চুরি, ডাকাতি কমে যাওয়ার ঘটনাও বেশ প্রশংসা কুড়ান তিনি। দিনের বেলাও ডাকাতির ঝুঁকিতে থাকা সরাইল-নাসিরনগর সড়কে বেশ কয়েকটি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে ডাকাত নিহতের ঘটনায় উক্ত রাস্তায় আর তেমন ডাকাতি নেই বললেই চলে। ২৫ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে এক সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন এস,পি মিজানুর রহমানের সামজিক কর্মকান্ড দেখে আমি তো মাঝে মধ্যে তাকে প্রশ্ন করি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আপনার সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না ?

এস,পি মিজানুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে যোগ দেওয়ার পরই তার কার্যালয়ে উইমেন সার্পোট সেন্টার চালু করেন। সেখানে পারিবারিক বিশেষ করে নারীদের সমস্যা বিষয়ে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার। উইমেন সার্পোট সেন্টারটি খোলার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানাথেকে আদালতে আসা নারী নির্যাতন মামলা অনেকটাই কমে গেছে।ঐ সেন্টার থেকেই এ সমস্ত বিষয়গুলো স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মীমাংসা করে দেয়া হচ্ছে।

২০১৫ সালের ১ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার হিসাবে যোগ দেন মোঃ মিজানুর রহমান। এর আগে তিনি গোপালগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জথেকে তার বদলী ঠেকাতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী সহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন কর্মসূচী পালনেরও খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাওয়া এক পরিসংখ্যান বিশ্লেষন করে দেখা গেছে এস,পি মিজানুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগদানের পর থেকেই অপরাধমূলক মামলা মোকদ্দমাও অনেকটা কমে গেছে। তার প্রায় দুই বছরে (মে) পর্যন্ত খুন সহ ডাকাতি ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে ২৪২টি। অন্যদিকে এর আগের আড়াই বছরে এ ধরনের মামলার সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। এস, পি মিজানুর রহমানের আমলে নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশের হামলা ইত্যাদি মামলা হয়েছে ৭ হাজার ৬ শতটি এর আগে আড়াই বছরে এ জাতীয় মামলার সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৩শত ৪৪টি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেত্ববৃন্দ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, পুলিশ, সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষ সহ সর্বস্তরের লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান পুলিশ সুপারের এরূপ কর্মকান্ড পুলিশের ইমেজ সংকটের মোকাবিলায়ও কাজে লাগবে।

পুলিশ সুপার ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মাদকমুক্ত করার যে ঘোষনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক নির্মূল, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ সমস্ত অপরাধমূলক কাজের ব্যবস্থা নিতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা চান এস, পি মিজানুর রহমান।

Comments

comments