Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / স্বাস্থ্য / শরীরের সঙ্গেই বাড়বে কৃত্রিম ধমনী!

শরীরের সঙ্গেই বাড়বে কৃত্রিম ধমনী!

স্বাস্থ্য ডেস্ক: যাদের ধমনীতে রক্ত বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয় তাদের বোধহয় দুশ্চিন্তার দিন ফুরালো! সম্প্রতি আমেরিকার মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অফ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বায়োমেডিক্যাল ই়ঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট ট্রাঙ্কুইল্লোর নেতৃত্বে একদল গবেষক কৃত্রিম ধমনী আবিষ্কার করেছেন। এই কৃত্রিম ধমনীর মধ্য দিয়ে কোন বাধা, বিপত্তি ছাড়াই বয়ে যাবে রক্ত। তবে বিস্ময়কর হল ছোট্ট টিউবের মতো এই কৃত্রিম ধমনী প্রাকৃতিক নিয়মেই বাড়তে থাকবে। তবে এর জন্য কেনো কৃত্রিম উপায় গ্রহণ করতে হবে না।

এ বিষয়ে সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-কমিউনিকেশন্স’-এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম- ‘টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং অফ আসেলুলার ভাসকুলার গ্র্যাফ্টস কেপাবল অফ সোম্যাটিক গ্রোথ ইন ইয়ং ল্যাম্বস’।

গবেষণাপত্রে ট্রাঙ্কুইল্লো বলেন, ‍যাদের ধমনীতে রক্ত বাধা পেয়ে বন্ধ হয়ে যায় এই কৃত্রিম ধমনী আবিষ্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাদের একবারের বেশি অস্ত্রোপচার করতে হবে না। তাদের শরীরে একটা কৃত্রিম ধমনী স্থাপন করলেই হবে। তবে যার শরীরে বসানো হবে তার শরীরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষ, কলাগুলি যতটা সময়ের সঙ্গে বাঁড়বে, সেই গতিতেই সেগুলি শরীরের ভেতরে বসানো কৃত্রিম ধমনীকে ঠেলেঠুলে বাঁড়িয়ে নিয়ে যেতে পারবে, দিতে পারবে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ।

এটি পরীক্ষা করার জন্য গবেষকরা একটি ভেড়ার শরীরে ওই কৃত্রিম ধমনী বসিয়ে দেখেন ওই ভেড়ার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের কোষ, কলাগুলি যেমন একটু একটু করে বেঁড়েছে, তেমনই তা ভেড়ার শরীরে বসানো কৃত্রিম ধমনীটিকে একটু একটু করে বাঁড়িয়েছে।

শরীরের ভেতরে বসানো কোনও কৃত্রিম অঙ্গের এইভাবে শরীরেই আপনাআপনি বেড়ে ওঠার ঘটনা রীতিমতো অভিনব।

আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অনিতা কুলকার্নি বলেন, ‘আমরা ভেড়ার চামড়ার কোষের সঙ্গে জিল্যাটিনের মতো একটা রাসায়নিক পদার্থ (ফাইব্রিন) মিশিয়ে ওই কৃত্রিম ধমনীর টিউবটাকে বানিয়েছি। তার পর টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে ভেড়ার শরীরের কোষ, কলাগুলিকে একটু একটু করে বাড়িয়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর পদার্থ (নিউট্রিয়েন্টস) বায়ো-রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে ওই টিউবে ঢুকিয়েছি। তার পর ওই টিউবটিকে একটি বিশেষ ধরনের ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে তার গায়ে লেগে থাকা ভেড়ার চামড়ার কোষগুলিকে সরিয়ে দিয়েছি। কারণ ওই কোষগুলির স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম ধমনীতে রক্তস্রোত বাধা পেতে পারে।

তিনি বলেন, বায়ো-রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে দু’টি কাজ করেছি আমরা। প্রথমত, কোষ, কলাগুলিকে বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর পদার্থ ঢুকিয়েছি। দ্বিতীয়ত, টিউবটাকে শক্ত করে তোলার জন্য ওই বায়ো-রিঅ্যাক্টর দিয়ে খানিকটা যেন ‘ব্যায়াম’ করিয়েছি আমরা। যাতে শরীরের মধ্যে রক্তস্রোতের জন্য তা ফেটে না যায় সে জন্য স্বাভাবিক ধমনীর চেয়ে কৃত্রিম ধমনীকে করা হয়েছে দ্বিগুণ শক্তিশালী।

কিন্তু শরীরের ধমনী তো সোজা নয়। শরীরের ভেতরে বসানো ওই ফাইব্রিন টিউবের কৃত্রিম ধমনীকে বাঁকিয়ে-চুরিয়ে সব দিকে বাড়াবে কী ভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রবার্ট ট্রাঙ্কুইল্লো বলেন, ভেড়ার শরীরে ওই কৃত্রিম ধমনী বসানোর পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই দেখা গিয়েছে, ওই ভেড়ার শরীরের কোষগুলি নিজেরাই বেড়ে উঠে কৃত্রিম ধমনীটিকে বাঁকিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি নির্দিষ্ট অঙ্গের অভিমুখী করে তোলার জন্য। এটাও দেখা গিয়েছে যে,1 একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত কোষগুলি বেড়ে উঠে ওই কৃত্রিম ধমনীটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পেরেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি ভেড়াগুলির বয়স যখন ৫০ সপ্তাহে পৌঁছেছে, তখন তাদের শরীরে বসানো কৃত্রিম ধমনীর ব্যাস ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। আর সেই কৃত্রিম ধমনীর মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া রক্তস্রোতের গতি বেড়েছে ২১৬ শতাংশ। ধমনীতে দ্রুত রক্ত প্রবাহের জন্য যা খুবই জরুরি, সেই কোলাজেন প্রোটিনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৬৫ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিক ধমনী যে ছন্দে বাড়ে ভেড়ার শরীরে সেই ছন্দেই আপনা আপনিই বেড়ে উঠেছে কৃত্রিম ধমনী। আর তার ফলে রক্ত জমাট বাঁধা, ধমনী হঠাৎ সরু হয়ে যাওয়া বা ধমনীতে ক্যালসিয়াম জমে রক্তপ্রবাহে বাধা দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে মানুষের শরীরে বসিয়ে তার কার্যকারিতা প্রমাণের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শুরু হবে খুব শিগগিরই।’

Comments

comments