Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / জেলার খবর / তনু হত্যার এক বছর, খোলেনি রহস্যের জট

তনু হত্যার এক বছর, খোলেনি রহস্যের জট

অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লায় কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তি আজ। ঘাতকরা অধরাই রয়ে গেল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো ফল দেখা যায়নি এবং এখনও রহস্যের জট খোলেনি।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, রোববার (১৯ মার্চ) দুপুরে একটি টিএন্ডটি ফোন নম্বর থেকে তনুর বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। একটি সংস্থার নাম বলে জানানো হয়- চাকুরি করতে চান কিনা,চাকরি করতে চাইলে চুপ থাকেন। মিডিয়ার সঙ্গে এতো কথা বলার দরকার নেই।

তনুর মা আরো বলেন, আমরা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে সিআইডি’র দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছি, জানি না বিচার পাব কিনা। সিআইডি কর্মকর্তারা শুধুই বলছেন, তনু হত্যাকাণ্ডে রহস্য উন্মোচন হবে এবং ঘাতকরা শাস্তি পাবে। এ পর্যন্ত বিচার পাবো এমন কোনও কার্যক্রম দেখিনি। যদি সম্ভব হয় প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাইব।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সিআইডি-কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীর মহড়া হওয়ায় আমরা তদন্ত কাজ করতে পারিনি। ফেব্রুয়ারিতে কিছু কাজ করেছি। তনুর লাশের পাশে পড়ে থাকা সেন্ডেল, কলম, মোবাইল ফোন ব্যাগসহ কয়েকটি জিনিসের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট পেলে আরও বেশি কাজ করা যাবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, দীর্ঘ এক বছরেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি। এটা তদন্ত সংস্থার দীর্ঘসূত্রিতা, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

তনুর স্বজনরা জানান, ঘটনার পর পর ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও ধীরে ধীরে সবই থেমে গেছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন, গণজাগরণ মঞ্চ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একসময় সরব থাকলেও এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন কেউ কথা বলছে না। মামলার অগ্রগতিও জিজ্ঞাসাবাদেই আটকে আছে।

কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনের কন্যা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী ২০১৬ সালের ২০ মার্চ বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরে না আসায় তার খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে রাত প্রায় ১০টায় নিহতের পিতা ইয়ার হোসেন খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের ভেতরে কালো পানির ট্যাঙ্ক সংলগ্ন ঝোপ থেকে উদ্ধার করেন নিহতের মরদেহ। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিভিন্ন সেনা ও গোয়েন্দা ইউনিটের লোকজন। এক সময় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)।

পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ওই বছরের মে মাসে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল এবং হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছিল। তবে কেন-কোথায় এবং কীভাবে তনুকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো সকল মহলে নানা গুঞ্জন চলছে।

তনুর লাশের দুই দফা ময়নাতদন্ত, মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি তনু হত্যা মামলা। এদিকে দীর্ঘ এক বছরেও দেশব্যাপী আলোচিত তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে না পারা, বিভিন্ন সময়ে সামরিক-বেসামরিক ৭০ জনের অধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ অস্পষ্ট থাকা, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ ধর্ষণকারীর শুক্রাণু পেলেও এ পর্যন্ত ডিএনএ ম্যাচ করে ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারে নি।

এদিকে তনুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরের গ্রামের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেয়ার কথাও রয়েছে।

Comments

comments